বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ফুলবাড়ীয়া কলেজের প্রিয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ফুলবাড়ীয়াবাসী—সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ভালোবাসা।
শিক্ষা মানুষের জীবনের অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো জ্বালায়, বিবেককে জাগ্রত করে এবং সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চলার শক্তি জোগায়। প্রকৃত শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা মানুষকে মানবিক, সৎ, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাই কেবল পাঠদানের স্থান নয়—এটি স্বপ্ন নির্মাণের কারখানা, মূল্যবোধের সূতিকাগার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার পবিত্র প্রতিষ্ঠান।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়ীয়া কলেজ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শ্রম, মেধা ও ভালোবাসায় প্রতিষ্ঠানটি আজ ফুলবাড়ীয়ার উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সাহস, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ফুলবাড়ীয়া কলেজের ইতিহাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ জনপদের মানুষের ভালোবাসা, আত্মমর্যাদা, অধিকার ও সংগ্রামের ইতিহাস।
বিশেষ করে ২০১৬ সালের সরকারিকরণ আন্দোলন আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। সেই আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারকারী, নির্যাতন সহ্যকারী এবং জীবন উৎসর্গকারী কালাম স্যার, ছফর আলী, জুলাই শহীদ সাগরসহ সকল আত্মত্যাগী মানুষের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শোকাহত করে, আবার সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার সাহসও জোগায়।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি শুধু তার ভবন বা অবকাঠামোতে নয়; বরং তার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের মধ্যেই নিহিত। তাই ফুলবাড়ীয়া কলেজকে এমন একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জ্ঞানের সঙ্গে মানবতার, মেধার সঙ্গে নৈতিকতার এবং শিক্ষার সঙ্গে দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটবে।
ধর্ম-বর্ণ-পেশা ও মতের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এখানে জ্ঞান ও মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ফুলবাড়ীয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার সঙ্গে আমরা একাত্ম। আমরা আশাবাদী, সরকারের সদয় বিবেচনায় ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ীয়া কলেজ অচিরেই জাতীয়করণের কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা লাভ করবে। এটি হবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সমগ্র জনপদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের সম্মানজনক স্বীকৃতি।
গৌরবময় অতীতকে ধারণ করে, বর্তমানকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ফুলবাড়ীয়া কলেজ জ্ঞান, মানবতা ও আলোর বাতিঘর হয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে—এই প্রত্যাশাই আমাদের হৃদয়ের অঙ্গীকার।
অধ্যাপক ডাঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ সাইফুল ইসলাম
এমবিবিএস, এফসিপিএস (রেডিওলজি ও ইমেজিং)
সিনিয়র কনসালটেন্ট, এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা
সভাপতি, ফুলবাড়ীয়া কলেজ
ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ